বুলগেরিয়ায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে অভিযান, বিক্ষোভ
১০ জুলাই ২০২০বৃহস্পতিবার সশস্ত্র পুলিশ বুলগেরিয়ার রাষ্ট্রপতি রুমেন রাডেভের কার্যালয়ে অভিযান চালায়৷ দেশের সংসদ এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক অনৈক্যের কারণে এ অভিযান চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে অনেকের ধারণা৷
এই অভিযানে রাষ্ট্রপতি রাডেভের আইনি কার্যকলাপের পাশাপাশি খুঁটিয়ে দেখা হয় তাঁর দুর্নীতিদমনবিষয়ক সচিব ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকেও৷ অনেক ক্ষণ জেরা করা হয় তাদের, জানাচ্ছে সংবাদসংস্থা রয়টার্স৷
তুঙ্গে দুর্নীতি ইস্যু
পুলিশের দাবি, এই অভিযান চালানো হয়েছে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ভেতর থেকে আইন বহির্ভূতভাবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং রাষ্ট্রের গোপন তথ্যপাচার সংক্রান্ত দুটি তদন্তের অংশ হিসেবে৷
কিন্তু রাডেভের সমর্থকরা মনে করেন, এই অভিযান আসলে বুলগেরিয়ায় দুর্নীতি বিষয়ে মূল তদন্তগুলি থেকে নজর সরানোর কৌশলমাত্র৷ তাদের মতে, বুলগেরিয়ার রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী এমন বেশ কিছু মানুষের দিক থেকে নজর সরাতেই এই অভিযান৷
বৃহস্পতিবারের অভিযানের পর কয়েক হাজার মানুষ রাজধানী সোফিয়াররাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন৷ মূল তদন্তকারী ইভান গেশেভের বিরুদ্ধেও তাদের ক্ষোভ ছিল লক্ষণীয়৷
রাষ্ট্রপতি রাডেভও বিক্ষোভে যোগ দেন৷ সেখানে তিনিও তুলে ধরেন সরকারের মধ্যে থাকা চক্রান্তকারী ‘মাফিয়া'দের সংশ্লিষ্টতার কথা৷
এর উত্তরে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অভিযানটি কোনো ‘রাজনৈতিক চালের' অংশ নয়৷ এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘‘অভিযানের লক্ষ্য রাষ্ট্রপতিই হন বা কোনো রাষ্ট্রপ্রধান, তদন্ত চলছে তথ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করে, কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিণতির তোয়াক্কা না করেই৷''
কেন এই রাজনৈতিক মতানৈক্য?
২০১৫ সালে বুলগেরিয়ান সমাজতান্ত্রিক দলের সমর্থনে নির্বাচিত হন রাষ্ট্রপতি রাডেভ৷ বিপরীতে রয়েছে বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী বয়কো বরিসভ ও তাঁর কনসারভেটিভ মন্ত্রিসভা, যারা বারবার রাডেভের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন৷
২০১৯ সালে, চলমান তদন্তের মূল তদন্তকারী পুলিশকর্তা ইভান গেশেভের নিযুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন রাডেভ৷ বলেছিলেন, শক্ত হাতে দুর্নীতি দমন করতে পারবেন না গেশেভ৷
বর্তমানে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসাবে বুলগেরিয়ার নাম উঠে এসেছে ট্রান্সপেরেন্সি ইন্টারন্যাশনাল সংস্থার তালিকায়৷
এসএস/এসিবি (রয়টার্স, এএফপি)