হামলা সত্ত্বেও আফগানিস্তানে থাকছে জার্মান সৈন্য
২১ অক্টোবর ২০০৮২০ অক্টোবর কুন্দুসের অদূরে সংঘটিত ঐ হামলায় দুজন জার্মান সৈনিক নিহত হন৷
এই হামলা কাপুরুষোচিত, মন্তব্য করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফ্রানত্স ইয়োজেফ ইউং৷ অবকাশ ভেঙে সঙ্গে সঙ্গে ফিরে আসেন তিনি বার্লিনে৷ মঙ্গলবার তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, হামলার কারণে আফগানিস্তান থেকে জার্মান সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে ভুল করা হবে৷ কারণ জার্মানিতে সন্ত্রাস হানা দেয়ার আগেই আফগানিস্তান থেকে তাকে হটাতে হবে৷
কুন্দুসের হামলায় পাঁচ আফগান শিশুও নিহত হয়৷ আহত হয় আরো দুই জার্মান সৈন্য এবং একটি শিশু৷ নিহত দুই জার্মান সৈন্য একটি জার্মান ছত্রী সেনা ব্যাটালিয়নের সদস্য৷ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউং হতাহতদের পরিবারদের প্রতি জানিয়েছেন সমবেদনা৷ কুন্দুসের কাছে জার্মান ছত্রিসেনারা সন্ত্রাসীদের মজুদ করা অস্ত্রের সন্ধান করতে গিয়ে আত্মঘাতী হামলার মুখে পড়ে৷
আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল হয়ে উঠলেও কুন্দুসে অবস্থার অবনতি ঘটেছে, বলেছেন জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী৷ হামলার সংখ্যা বাড়লেও সেখানে জার্মান সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন৷ পুনর্গঠন কাজের জন্য নিরাপদ এক পরিবেশ তৈরি করতেই জার্মান সৈন্যরা কুন্দুসে রয়েছে৷ এই কাজে বিপদের ঝুঁকি সত্ত্বেও তারা তাদের দায়িত্ব পালন করে যাবে, বলেন তিনি৷
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাংক-ভাল্টার স্টাইনমায়ারও প্রাণঘাতী নৃশংস ঐ হামলার ব্যাপারে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন৷ তিনি বলেছেন, আফগান কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এই হামলার ব্যাপারে দায়ী যারা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সব রকমের উদ্যোগ নেয়া হবে৷
জার্মান সবুজ দলের মনোনীত প্রধান চেম ওয়েজদেমির মনে করেন, আফগানিস্তানে জার্মান সৈনিকরা চিরকাল থাকতে পারে না৷ তিনি চান, জার্মান সৈন্যরা কতদিন আফগানিস্তানে থাকবে সে সম্পর্কে চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যারকেল খোলাসা করে বলুন৷ তবে সবুজ দলের আর এক রাজনীতিক ভিনফ্রিড নাখটভাই অবশ্য মনে করেন, এ মুহূর্তে সৈন্য সরিয়ে আনা নিয়ে বিতর্ক চালানোর কোন অর্থ নেই৷
উল্লেখ্য, মাত্র গত সপ্তাহেই জার্মান সংসদের নিম্ন কক্ষ বুন্দেস্তাগ আফগানিস্তানে জার্মান সৈন্যদের উপস্থিতির মেয়াদ ২০০৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে৷ এবং সর্বোচ্চ সৈন্যসংখ্যা সাড়ে চারহাজার-এ নির্দিষ্ট করেছে৷