‘শত্রু'দের ওপর দোষ চাপালো ইরান
৩ জানুয়ারি ২০১৮মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন খামেনি৷ খামেনির ভাষায়, ‘‘সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে৷ যারা ইসলামী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে, তারা সমস্যা তৈরি করবার জন্য কী না করেছে– পয়সা ঢেলেছে, অস্ত্র দিয়েছে, রাজনৈতিকভাবে চেষ্টা করেছে, এমনকি গোয়েন্দাদেরও কাজে লাগিয়েছে৷''
কোনো দেশের নাম না বললেও যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই যে খামেনীর সন্দেহের তির তা বলাই বাহুল্য৷ অ্যামেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে টুইট করে সরকারবিরোধীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন৷
জাতিসংঘে মার্কিন দূত নিকি হ্যালি ইরান বিষয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন৷ ‘‘ইরানের জনগণ স্বাধীনতার জন্য চিৎকার করছে৷ সব স্বাধীনতাকামী মানুষের তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত,'' এক সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন তিনি৷
সরকার সমর্থকদের সমাবেশ
এদিকে, সরকারের পক্ষে ইরানের রাস্তায় নেমেছে হাজারো জনতা৷ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী আহভাজ, কের্মানশাহ ও গর্গানসহ দেশটির অন্তত ১০টি শহরে এই সমাবেশ চলেছে৷ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বুধবার সমাবেশের ছবি লাইভ দেখানো হয়েছে৷ সেখানে সমর্থকরা ইরানের পতাকা ও সরকারের সমর্থনে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল করেছে৷ তারা খামেনীর ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে শ্লোগান দিয়েছে, ‘‘নেতা, আমরা তৈরি'', কিংবা ‘‘ইউএসএ-র সঙ্গে ডুবে মরো''৷
বিক্ষোভ থেমে নেই
ইরানে মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম ও ছবির অ্যাপ ইনস্টাগ্রাম বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ৷ তেহরানের একটি কোর্ট বিক্ষোভকারীদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে বলেও সতর্ক করে দিয়েছে৷
এদিকে, বুধবার রাতেও তেহরানসহ কয়েকটি শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে বলে জানা গেছে৷
দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও দুর্বল অর্থনৈতিক কাঠামোর প্রতিবাদে গেল ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পরিণত হয়৷ এ পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন শহরে সংঘাতে ২১ জন মারা গেছেন৷ গ্রেফতার হয়েছেন কয়েকশ'৷
জেডএ/এসিবি (এএফপি, রয়টার্স)