কেট-উইলিয়ামের বিয়ে নিয়ে অভিবাসীদের আগ্রহ কম
১৩ এপ্রিল ২০১১টারা উইন্ডসরের বয়স ২৬৷ উইন্ডসর নামটি শুনলে মনে হবে সে হয়তো রাজপরিবারের একজন সদস্য৷ আসলে তা নয়৷ টারা ভারত-জার্মান-ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত৷ পড়াশোনা করছে গ্লস্টারে৷
গোটা ব্রিটেনের জনসাধারণের প্রায় ৯ শতাংশ হচ্ছে বিদেশি বংশোদ্ভূত৷ এর ৩০ শতাংশই বসবাস করে রাজধানী লন্ডনে৷ লন্ডনের সবাই যেভাবে কেট আর উইলিয়ামের বিয়েতে আগ্রহ দেখাচ্ছে, ব্রিটেনের অন্যান্য জায়গায় কিন্তু তেমনটা দেখা যাচ্ছে না৷ অনেকেই মনে করেন আধুনিকতার এই যুগে ব্রিটেন পিছিয়ে রয়েছে৷ এখনো রাজা-রানি, প্রাসাদে থাকা – এসব অযথা খরচের মধ্যেই পড়ে৷ টারা উইন্ডসর বলল, ‘‘তারা সবসময়ই একটু বেশি বাড়াবাড়ি করে৷ প্রিন্স ফিলিপ তো সারাক্ষণই বৈষম্যমূলক মন্তব্য করছেন৷ কিন্তু আসল কথা হল এরা ব্রিটিশ সংস্কৃতির অংশ৷ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এদের প্রভাব রয়েছে৷''
ইরিত্রিয়ান বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক মেসগানা৷ ২০০৪ সাল থেকে সে ব্রিটেনে বসবাস করছে৷ সে বলল, ‘‘রাজ পরিবারের সদস্যরা কেমন হয়, তারা কী করে সে সম্পর্কে আমার জ্ঞান কম৷ তবে আমি জানি, প্রিন্স উইলিয়াম খুব দয়ালু৷ সে তাঁর মায়ের মত সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পছন্দ করে, তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে৷ ব্রিটিশ রাজ পরিবার এভাবেই ব্রিটেনের প্রতিনিধিত্ব করছে বহির্বিশ্বে৷''
অ্যাঙ্গোলান বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক মারিয়ো দিয়েগো পড়াশোনা করছে নিউক্যাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ সে বলল, ‘‘১৯৯৭ সালে মৃত্যুর কয়েক মাস আগে প্রিন্সেস ডায়ানা আমাদের দেশে এসেছিলেন৷ মাইন ফিল্ডের মধ্যে দিয়ে নির্ভয়ে হেঁটে গেছেন৷ খুব কাছ থেকে দরিদ্র মানুষদের দেখেছেন৷ তাদের কাছে টেনে নিয়েছেন৷ তাঁর পুত্র উইলিয়াম যদি এমন কাজের সঙ্গে সবসময়ই সম্পৃক্ত থাকে তাহলে একদিন সে উপযুক্ত এবং যোগ্য রাজা হতে পারবে৷''
বোঝা যাচ্ছে রাজপরিবার নিয়ে ব্রিটেনের মানুষরা খুশি, আনন্দিত এবং গর্বিত৷ তবে সবাই কি ২৯ তারিখে টেলিভিশনের সামনে বসে থাকবে? ডিয়েগো জানাল, ‘‘না, আমি হয়তো শুধু হাইলাইটগুলো দেখবো৷''
প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার
সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন